৫১তম বিসিএস টার্গেট: সার্কুলার কবে? সিলেবাস ও দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড

51st BCS Preparation: বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস হলো দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক চাকরি। বর্তমানে ৪৬, ৪৭ ও ৪৮তম বিসিএসের কার্যক্রম বিভিন্ন ধাপে চলমান থাকলেও, দূরদর্শী শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই ৫১তম বিসিএস-কে পাখির চোখ করছেন।

যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম, ২য় বা ৩য় বর্ষে পড়ছেন, তাদের জন্য এখনই “মিশন ৫১তম বিসিএস” শুরু করার উপযুক্ত সময়। কারণ বিসিএস এখন আর ৩-৪ মাসের প্রস্তুতিতে পার হওয়ার মতো পরীক্ষা নেই; এখানে প্রয়োজন শক্ত বেসিক বা ভিত্তি।

আজকের এই গাইডে আমরা ৫১তম বিসিএসের সম্ভাব্য সময়কাল, সিলেবাস বিশ্লেষণ এবং নতুনদের জন্য ‘জিরো টু হিরো’ প্রস্তুতির রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করব।

৫১তম বিসিএস সার্কুলার কবে হতে পারে?

যেহেতু আজ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস এবং ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল আসন্ন, তাই পিএসসির বর্তমান গতিধারা বিশ্লেষণ করলে একটি সম্ভাব্য টাইমলাইন দাঁড় করানো যায়:

  • ৪৭তম বিসিএস: চলমান বা শেষের পথে।
  • ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএস: ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে সার্কুলার ও কার্যক্রম চলবে।
  • ৫০তম বিসিএস: ২০২৭ সালের শেষ দিকে বা ২০২৮ সালের শুরুতে।
  • ৫১তম বিসিএস: সম্ভবত ২০২৮ সালের শেষার্ধে বা ২০২৯ সালের শুরুতে ৫১তম বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশিত হতে পারে।

(দ্রষ্টব্য: এটি একটি আনুমানিক হিসাব। পিএসসির কার্যক্রমের গতির ওপর ভিত্তি করে সময় কম-বেশি হতে পারে।)

বিসিএস পরীক্ষার ধাপ ও সিলেবাস (সংক্ষেপে)

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য আপনাকে তিনটি ধাপে উত্তীর্ণ হতে হবে। নতুনদের জন্য মানবণ্টনটি নিচে দেওয়া হলো:

ধাপ ১: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (২০০ নম্বর)

এটি মূলত বাছাই পর্ব। সময় ২ ঘণ্টা।

  • বাংলা (ভাষা ও সাহিত্য): ৩৫

  • ইংরেজি (ভাষা ও সাহিত্য): ৩৫

  • বাংলাদেশ বিষয়াবলি: ৩০

  • আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: ২০

  • ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ১০

  • সাধারণ বিজ্ঞান: ১৫

  • কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি: ১৫

  • গাণিতিক যুক্তি: ১৫

  • মানসিক দক্ষতা: ১৫

  • নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: ১০

ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা (৯০০ নম্বর)

যারা প্রিলিতে টিকবেন, তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এখানে বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, বিজ্ঞান ও গণিত এবং মানসিক দক্ষতা বিষয়ে বিস্তারিত লিখতে হয়। পাস নম্বর ৫০%।

ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (২০০ নম্বর)

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২০০ নম্বরের ভাইভা নেওয়া হয়।

দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি: এখন থেকেই যা করবেন

৫১তম বিসিএস যেহেতু বেশ দূরে, তাই এখন গাইড বই মুখস্থ করার সময় নয়। এখন সময় হলো ‘বেসিক’ স্ট্রং করার।

১. ইংরেজি ও ভোকাবুলারি (The Game Changer)

বিসিএসে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে দুর্বল থাকে।

  • করণীয়: প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা (The Daily Star) পড়ার অভ্যাস করুন। অপরিচিত শব্দগুলো ডায়েরিতে নোট করুন। গ্রামারের বেসিক রুলসগুলো ঝালিয়ে নিন।

  • লক্ষ্য: ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং বা বানিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করা।

২. গণিত ভীতি দূর করা

পরীক্ষার আগে ১ মাসে গণিত শেখা যায় না।

  • করণীয়: ক্লাস ৭, ৮ ও ৯-১০ এর সাধারণ গণিত বইগুলো সংগ্রহ করুন। বিশেষ করে পাটিগণিত, বীজগণিত এবং জ্যামিতির বেসিক সূত্রগুলো বুঝুন।

৩. সাধারণ জ্ঞান ও পত্রিকা

বাজারে প্রচলিত জিকে (GK) বই এখন কিনবেন না, কারণ তথ্য বদলে যাবে।

  • করণীয়: নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ, বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ইতিহাসের দিকে নজর দিন। ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ পড়ার দরকার নেই, বরং মূল ঘটনাগুলো বুঝুন।

৪. বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

  • করণীয়: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটি (মুনীর চৌধুরী রচিত পুরনো সংস্করণ) ভালো করে আয়ত্ত করুন। বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত সাহিত্যিকদের (রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিম) জীবনী ও কর্ম সম্পর্কে জানুন।

নতুনদের জন্য ৫টি গোল্ডেন টিপস

১. একাডেমিক রেজাল্ট: বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনার্সের রেজাল্ট খারাপ করবেন না। মনে রাখবেন, ভাইভা বোর্ডে আপনার সাবজেক্ট নলেজ যাচাই করা হবে। ২. মানসিক দক্ষতা: বিসিএস শুধু পড়ার পরীক্ষা নয়, এটি নার্ভের খেলা। পাজল সলভিং বা আইকিউ টেস্ট প্র্যাকটিস করুন। ৩. তথ্যপ্রযুক্তি: কম্পিউটার ও প্রযুক্তির বেসিক বিষয়গুলো (MS Office, Internet, Hardware) সম্পর্কে ধারণা রাখুন। ৪. লেখা সুন্দর করা: লিখিত পরীক্ষায় হাতের লেখা এবং উপস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন থেকেই হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করার প্র্যাকটিস করুন। ৫. ধৈর্য: বিসিএস একটি ম্যারাথন দৌড়। এখানে ধৈর্য ধরে লেগে থাকাটাই আসল।

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আমি ১ম বর্ষে পড়ি, আমি কি কোচিং করব? উত্তর: না। ১ম বা ২য় বর্ষে কোচিং করার কোনো প্রয়োজন নেই। এই সময়টা নিজের বেসিক উন্নয়নে ব্যয় করুন। ৪র্থ বর্ষে গিয়ে কোচিংয়ের কথা ভাবতে পারেন।

২. কোন ক্যাডার চয়েস দেব? উত্তর: এটি আপনার আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত পররাষ্ট্র, প্রশাসন এবং পুলিশ ক্যাডার বেশিরভাগ প্রার্থীর পছন্দের শীর্ষে থাকে।

৩. বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র না হলে কি বিজ্ঞানে সমস্যা হবে? উত্তর: বিসিএসের বিজ্ঞান মূলত ‘দৈনন্দিন বিজ্ঞান’। আর্টস বা কমার্সের শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বোধগম্য। নিয়মিত পড়লে সমস্যা হবে না।

উপসংহার: ৫১তম বিসিএস আপনার জন্য একটি সোনালী সুযোগ হতে পারে যদি আপনি এখন থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে পারেন। “আজ না, কাল” বলে সময় নষ্ট না করে প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা বিসিএসের বেসিক পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখুন।